খুন করে মা’র লাশ গুম করতে পুড়িয়ে দেয় কিশোর!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
এনএনবি বাংলা.কম
মা হত্যাকারী কিশোরকে গ্রেফতার করেন মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।
ছবি- এনএনবি বাংলা.কম
গোপালগঞ্জ : যেখানেই খুন, ধর্ষণ, চোরাকারবারি বা মাদক পাচার সেখানেই মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে হাজির হন চৌকস কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। ঘটনার গভীর থেকে গভীরে গিয়ে উন্মোচন করেন প্রকৃত রহস্য আর আইনের আওতায় দাঁড় করান অপরাধী।
এবারও লোমহর্ষক আর হৃদয়বিদারক তেমন এক ঘটনা আবিষ্কার করে অপরাধীকে গ্রেফতার করায় আদালত নিয়েছেন, মাকে খুন করা কিশোরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। ২৭ জুন, দিবাগত রাতে ঘরে ভাত খেতে বসে কথা-কাটাকাটির মধ্যে মাকে চেলাকাঠ দিয়ে মাথায় এক আঘাত করে খুন করে কিশোর।
পরে তথ্য প্রমাণ আড়াল করতে মরদেহটি তখনই নৌকা দিয়ে দূর জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে দেয় নিহত নারীর গর্ভজাত ওই সন্তান। কিশোর তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রণীর ছাত্র। লোমহর্ষক আর হৃদয়বিদারক এই ঘটনার ঘটনাস্থল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকা বাড়ি।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন এনএনবি বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান- মোটেও সহজ ছিলো না রহস্য উদঘাটন করে আসামি গ্রেফতার। কারণ হত্যাকারী ছিলো নিহত নারীর গর্ভজাত সন্তান এক কিশোর। খেতে বসে সাধারণ রাগারাগি করে মা’র মাথায় চেলাকাঠ নিয়ে আঘাত করে খুন করে সে! পরে রাতের অন্ধকারে একাই লাশ পুড়িয়ে চুপচাপ ঘরে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে বাবা ঘরে ফিরলে কিশোর জানায় মা নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছেন। এদিকে শ্বশুর বাড়িসহ কোথাও স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে শ্বশুর শাশুড়ির নামে মামলা করেন কিশোরের বাবা। এক পর্যায়ে শ্বশুরও করেন তার বিরুদ্ধে মামলা।
অবশেষে ঘটনার তদন্তে নেমে সকল জিজ্ঞাসার অবসান ঘটিয়ে মূল রহস্য উন্মোচন করে ২৪ সেপ্টেম্বর, দিবাগত গভীর রাতে আসামি করা হয় গ্রেফার। পরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবিরে কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় হত্যাকারী কিশোর। নিহত হাসি নারী রানী পাণ্ডে (৩৫) মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের জুড়ান বাড়ৈর মেয়ে। তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকা বাড়ি গ্রামের নৈশপ্রহরী মনোরঞ্জন পাণ্ডের স্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *