বর্ষায় হাওরে নৌযানে চলবে কঠোর নজরদারি : পুলিশ সুপার আকবর

মদন, খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) ঘুরে এসে

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকবর আলী মুনসী | ছবি- এনএনবি বাংলা

সৌমিন খেলন : অপরাধ পর্যবেক্ষণ তো বটেই সেই সাথে এবারের বর্ষায় পানিপথে চলাচলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে থাকবে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ।

জনস্বার্থে বর্ষায় হাওরে কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে শুক্রবার (১২ মার্চ) মদন, মোহনগঞ্জ হাওরাঞ্চল ঘুরে এনএনবি বাংলায় একান্ত আলাপচারিতায় বলছিলেন, জেলার পুলিশ প্রধান মো. আকবর আলী মুনসী।

তিনি বলেন, যাত্রী আর নৌযান সংশ্লিষ্টদের অসাবধানতা আর খামখেয়ালিপনায় দেখা যাচ্ছে বছর বছর বেড়েই যাচ্ছে হাওর বা পানিপথে দুর্ঘটনা। ছোট, বড় বিভিন্ন নৌকা বা ট্রলার ডুবে ঘটছে একের পর এক প্রাণহানি!

কিন্তু দেখা যাচ্ছে একটু সাবধান হলেই এসব দুর্ঘটনা বা প্রানহানির মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের বর্ষা থেকেই নতুন কিছু ফর্মুলায় কাজ করবে পুলিশ সদস্যরা। এরইমধ্যে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশদের পরিকল্পনা ছক করে দেয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ও কেন্দুয়া মূলত হাওর অধ্যুষিত জনপদ। বর্ষার সময় চারিদিকে থৈথৈ পানি থাকার কারণে এসব অঞ্চলের একমাত্র বাহন হয় নৌকা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চলাচলে অসাবধানতার কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। যেসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর চোখে পানি ঝরানো ছাড়া কিছু করার থাকে না, এসব ঘটনার হয় না কোনো স্বান্তনা।

সবকিছুর পরও একমাত্র পুলিশই যেন কেবল দায় এড়াতে পারে না! সবদিকেই পুলিশের খেয়াল রাখতে হয়। বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবার হাওরে নৌপথে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে পুলিশ, উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।

কি ধরণের নজরদারি হবে আর নজরদারির নামে জনসাধারণের হয়রানির মতো ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারই বা কি হবে, এমন জিজ্ঞাসায় তিনি বলেন, নজরদারি বলতে হাওরের প্রতিটি ঘাটেই পুলিশ থাকছে। তারা খেয়াল রাখবে কোনো নৌযানে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী নেয়া হচ্ছে কি-না? এরই সাথে নৌযান চালকদের সাথে কথা বলে প্রতিটি ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে।

নৌযানগুলোর চালক, মালিক তাদের সকলকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলে সচেতনতায় কাজ করবে পুলি। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়েও নজরদারি করবে পুলিশ। সবকথার শেষকথা হচ্ছে কথায় নয় কাজেই প্রমাণ করা হবে আমরা জনতার পুলিশ।

হয়রানি। এমন ঘটনার যদি কোনো পুলিশ সদস্য জন্ম দেয় তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জানাতে হবে। অপরাধ করে সে যেই হোক কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ০৫ আগস্ট, বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার মদনের মইনকা হাওরে ট্রলার ডুবে মারা যায় আঠারো পর্যটক। তারা প্রত্যেকে মাদ্রাসার বিভিন্ন বয়সী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

এরপর মাস না পেরুতেই ফের একই জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ট্রলার ডুবে তিন শিশুসহ মারা যায় এগারোজন যাত্রী। এই ঘটনাটিও ঘটে ০৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুরে। এছাড়াও এক-দুজন করে ঘটছেই এই প্রাণহানির ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *