অপহৃত শিশু উদ্ধার বা নেত্রকোনা পুলিশের আস্থা অর্জনের গল্প

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
এনএনবি বাংলা.কম

শিশু পূজা

নেত্রকোনা : অপহরণকারী, দুর্ধর্ষ খুনী, ইভটিজার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটক-গ্রেফতারের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্বস্তি দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে একের পর এক সফল অভিযান। আর জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জেলাবাসীর একের পর এক প্রশংসার ফুলঝুরি ভাগাচ্ছেন পুলিশের চৌকস সদস্যরা।

তারা শুধু নিজেরা প্রশংসিত হচ্ছেন বিষয়টি এখানেই শেষ নয় বরং উল্লেখিত সফল অভিযানগুলোতে ফিরিয়ে দিচ্ছেন অনেক পরিবারের মুখের চিরদিনের হাসি।

সম্প্রতি তেমনই আরো এক সফল অভিযান করে রিনা আক্তার নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতারসহ অপহৃত শিশু পূজাকে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করেছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম। সাথে ছিলেন আভিযানিক দলের সদস্য ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. সোহেল রানা ও আবু রায়হান।

পূজা দেবনাথ নামে তিন বছরের অপহৃত ওই শিশুকে উদ্ধার করে মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দিয়ে পরিবারটির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এই পুলিশ সদস্যরা। মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. তাজুল ইসলাম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোরশেদা খাতুন ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকবর আলী মুনসী’র সার্বিক সমন্বয় ও তদারকিতে সম্পন্ন হয় সফল এই অভিযান।

পরে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুকে পরিবারের হাতে তোলে দেয়া হয়। মডেল থানায় করা হয় সংবাদ সম্মেলন। সেখানে তুলে ধরা হয় শিশু পূজা অপহরণ ও উদ্ধার সম্পর্কিত পুরো ঘটনা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশু পূজা নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকার রিপন দেবনাথের মেয়ে। অপহরণকারী রিনা ছিলো তাদেরই বাসার গৃহপরিচারিকা। খুব কৌশলে সুযোগ বুঝে রোববার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে শিশু পূজাকে নাগড়া আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন বাসা থেকে অপহরণ করে সিলেট চলে যায় সে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পূজার মা শিশুদের ঘরে রেখে পাশের দোকান থেকে কিনতে যায় মশার কয়েল। পরে অভিভাবক শূন্য ফাঁকা ঘরে ঢুকে যায় গৃহপরিচারিকা রিনা। এবং চকলেট কিনে দেবে বলে পূজাকে ঘর থেকে নিয়ে সরাসরি চলে যায় বিভাগীয় শহর সিলেট।

এদিকে পূজার মা ইতি দেবনাথ ঘরে এসে পূজাকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। পূজার বড়বোন শিশু ঝুমঝুমি দেবনাথ তার মাকে জানায় বোন পূজাকে রিনা নিয়ে গেছে। পরে মা ইতি বিষয়টি শিশুর বাবাকে অবগত করেন। পরবর্তীতে শিশুর বাবা রিপন দেবনাথ সংশ্লিষ্ট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে চটজলদি অভিযানে নেমে পড়েন আভিযানিক দলের সদস্যরা। এবং তারা সফল হন। অপহরণকারী রিনাকে গ্রেফতারসহ শিশু পূজাকে সিলেটের মেট্রোপলিটন এলাকার কোতোয়ালি থানাধীন আখালিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া শিশু পূজাকে কোলে নিয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম মঞ্জু

সিলেটের নারী রিনা মূলত বৈবাহিক সূত্রে নেত্রকোনায় বসবাস করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তেমনই পূজাদের বাসায়ও কাজে যেতেন। রিনার স্বামী খায়রুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, মোরশেদা খাতুন (সদর সার্কেল), মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. তাজুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম, আভিযানিক দলের সদস্য ইন্সপেক্টর মো. সোহেল রানা (তদন্ত) ও আবু রায়হানসহ মডেল থানার সকল পুলিশ সদস্যরা  উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা তুলে ধরছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকবর আলী মুনসী এনএনবি বাংলাকে জানান, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ সকলের পাশে আছে এবং থাকবে। তবে প্রত্যেক নাগরিকদেরকেও সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন বা দৃষ্টি রাখতে হবে।

যারা (পুলিশ) মাঠে থেকে শারীরিক আর মানসিক অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে শিশু পূজাকে উদ্ধার করেছে আভিযানিক সেই দলের সদস্যদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *