ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সড়কেই ধান বিক্রি

বিক্রি করা ধান ভর্তি বস্তা সেলাই করছেন কৃষক | ছবি- এনএনবি বাংলা

রহমান অভি : মাঠ থেকে ফসল কাটার পর, গোলা না ভরে সরাসরি আড়তদারদের কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন কৃৃৃষক।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গিয়েছে এবারের ফসল ঘরে তোলার মৌসুমি এ চিত্র।

ফলন ভালো হলেও ‘হিটশক’ তথা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসল নষ্ট হয়ে কৃষক কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন। আর এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় নষ্ট আর পরিশ্রম না বাড়িয়ে মাঠেই ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এমনই সব তথ্য।

মঙ্গলসিদ্ধ গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক এনএনবি বাংলাকে জানান, একশো কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তিনি। ফলনও হয়েছিলো বেশ ভালো। তবে কিছুদিন আগে হিটশকে জমির প্রায় অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

বুরুজ আলী নামের বানিয়াজান গ্রামের এক কৃষক এনএনবি বাংলাকে জানান, কিছু ধারদেনা করে অন্যের বিশ কাঠা জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। ছিলো অপার সম্ভাবনা। ঋণ পরিশোধ করেও লাভবান হওয়া মোটেও অসম্ভব ছিলো না।

তবে হিটশকে সব আশা ছাই এখন। লাভের আশা দূরে থাক এবার ঋণ পরিশোধ করাটাই হবে বোনাস। বাকিটা সব আল্লাহর ইচ্ছা…

এসব পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে মাঠের ধান মাঠেই বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। তারা বলছেন, এখন যদি ধান ঘরে তোলা হয় তবে সেই ধান সিদ্ধ আবার শুকানো ; এই যে শ্রম আর সময়টা যাবে তাতে করে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে না।

সবদিক বিবেচনা তথাপি হিসেবনিকেশ কষে তাই মাঠেই ধান বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। সাড়ে সাতশো থেকে নয়শো টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ধান। মাঠ থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে বিক্রি করেই ক্ষতির হিসেব মিলাতে চাচ্ছেন প্রকৃতির নায়ক এই কৃষকরা।

মাঠেই ধান বিক্রি করছে কৃষক | ছবি- এনএনবি বাংলা

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এনএনবি বাংলাকে জানান, ইরি-বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

৩০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ১ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল এবং ২ শত ৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান।

আবাদের হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ধরা হয়েছিলো ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪ শত ৯৩ মেট্রিক টন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *