করোনা প্রতিরোধে নেত্রকোনায় জনসহায়তার ঘাটতি!

সৌমিন খেলন : করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেত্রকোনায় দিনরাত কাজ করছে সরকারি দফতরসহ স্বেচ্ছাসেবী নানা সংগঠন। মানুষকে সচেতন করা থেকে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা ও সহযোগিতা করার চেষ্টার যেন ত্রুটি নেই কারো।

বিশেষ করে জেলা প্রশাসন-পুলিশ, সেনাবাহিনী সমন্বিত টহল টিমগুলো ছুটছে দুর্বার গতিতে। তাদেরকে কখনো দেখা যাচ্ছে জনসচেতনতা তৈরিতে, কখনো বা খাদ্য সহায়তা নিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় জনতার দরজায়। কিন্তু তারপরও সরকারের নির্দেশ যেভাবে মেনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কথা মানছেন না তা অনেকেই।

দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি লোকজনের সাথে কেউ কেউ শুরু করেছেন যেন লুকোচুরি খেলা! আর এদিকে এই লুকোচুরি খেলায় পরিস্থিতির সামাল দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত বিভিন্ন দফতরের কর্মরতরা। যারা খেলছেন এমন খেলা তাদের কেউ-ই মানছেন না লক ডাউন বা সামাজিক দূরত্ব নীতি। যে যার ইচ্ছেমতো সড়কে বেরুচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দিতে পারছেন না কেউ কোনো সদুত্তর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর আসছে ‘ভালো লাগে না ঘরে’! এসব শ্রেণির লোকজনদের বুঝিয়ে বাসায় বা ঘরে ঢোকালেও তারা ফের তারা বেরিয়ে পড়ছেন। যতক্ষণ প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ততক্ষণ তারা ভিতরে। বাহিরে আসার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে না করোনা প্রতিরোধে পরিধেয় পোশাক! তবে এর শেষ কোথায়?

এভাবে প্রশাসন বা সরকারের পক্ষে কতটুকু সম্ভব করোনা মোকাবেলা? সচেতন মহলের মন্তব্য সচেতন হতে হবে আগে নিজেদেরকে। নিজেরা সচেতন হলে করোনা মোকাবেলা সম্ভব। আর নিজেরা সচেতন হয়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও দায়িত্ব সামলাতে দৌঁড়াতে হবে না তেমন। সেবাদানকারী বাহিনীগুলোকে অহেতুক দৌঁড় না করিয়ে স্বস্তিতে থাকতে সহায়তা করলে সেবা বৃদ্ধি পাবে। যেকোনো পরিস্থিতি তারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে মানুষের কল্যাণে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোমবার (০৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী শহরে কাজ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ। পুলিশ, সেনা সদস্য নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মানুষ ঘরে ফেরানোর জন্য কাজ করেন তিনি। শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় মানুষের অহেতুক জনসমাগম ও অনিরাপদ হরদম চলাফেরা।

বিনয়ী আচরণের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনা-পুলিশ সদস্যরা মানুষকে ঘরে ফিরতে বলেন৷ এসময় তারা জনসাধারণকে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পড়ার পর জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পরামর্শ দেন। তারই সাথে রাখতে বলা হয় সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু সরকারি এসব নির্দেশনার তোয়াক্কাই যেন করছেন অনেকেই। দিব্যি বাইরে আসছেন যে যার ইচ্ছেমতো! বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে, সড়কে জনসমাগম ও মেছুঁয়া বাজার, জয়ের (ষুষের) বাজারে নেই সামাজিক দূরত্ব। সব ভুলে সেখানেও জমেছিল জনজট!

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ এনএনবি বাংলাকে জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথা সম্ভব কাজ করছে জেলা প্রশাসন। তবে মানুষ বুঝেও গায়ে না মাখার বিষয় পরিলক্ষিত। সেক্ষেত্রে কষ্ট হচ্ছে প্রচুর। মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরানোর পর টিম নিয়ে স্থান ত্যাগ করলেই দৌঁড়ে বাহিরে আসছে আবারও!

পরিবারগুলোর খাবারের যোগানসহ যেকোনো প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখছে সরকার। তারপরও কেন যে মানুষ…? সরকার, প্রশাসন বা শুধু বিভিন্ন বাহিনী বলে কথা নয় এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তবেই বেঁচে যাবে সমাজ রাষ্ট্র তথা গোটা দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *