বিছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ট্রলারেই সন্তান প্রসব!

বিছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ট্রলারেই সন্তান প্রসব!

সাতক্ষীরা : দ্বীপ খ্যাত ইউনিয়ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর। যেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা এলেই যে কারো শিউরে উঠে শরীর।

সেক্ষেত্রে কোনো অসুস্থ মানুষ হলে তো কথাই চলে না। তাও যদি হয় প্রসব ব্যথায় কাতর প্রসূতি কোনো মা। ইউনিয়টি থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া মানে রীতিমতো একটি যুদ্ধ।

যোগাযোগের দুরাবস্থায় জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রসব যন্ত্রণায় কাতর প্রসূতি এক মা। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে গর্ভের সন্তানসহ এ যাত্রায় বেঁচেছেন তারা।

এমনটাই দাবি বা মন্তব্য করছেন নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে ইউনিয়নটির চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান হোসেন’র স্ত্রী কেয়ামনি’র প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়।

প্রথমত, বিছিন্ন যোগাযোগ ব্যাবস্থা। তারপর সেসময় অবিরত ঝরছিল বৃষ্টি। স্বাভাবিক সময়েও দূরের পথ পাড়ি দিতে ব্যাবহার করা হয় মোটরসাইকেল। কিন্তু বৃষ্টিতে মাটির সড়কপথ কাদামাখা হয়ে এখন সেইপথও বন্ধ! কিন্তু এদিকে তো প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন প্রসূতি ওই মা।

এ যেন অগ্নি পরীক্ষা, শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাথা সহ্য করেন। তারপর শেষ পর্যন্ত বাঁশ ও রশির সাহায্যে দোলনাকারে তৈরি করে স্বামী-শ্বশুরের কাঁধে চড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে খোলপেটুয়া নদীর পাতাখালী খেয়াঘাটে যেতে হয়।

সেখানে পৌঁছে ট্রলারে করে নওয়াবেকী ঘাটে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছনোর বারো কিলোমিটার আগেই দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারে সন্তান প্রসব করেন গর্ভবতী মা।

তিনি হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান হোসেন’র স্ত্রী কেয়ামনি (২০)। তার শ্বশুর ইব্রাহিম হোসেন জানান, মা ও নবজাতক দু’জনই সুস্থ আছে। তারপরও তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

কেয়ামনি ও তার নবজাতক বেঁচে গেলেও এ উপকূলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় এসব ঘটনায় জীবন নিয়ে চলে একরকম জুয়াখেলা। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এখান থেকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বেলার পথ। তারমধ্যে কয়েক ঘন্টা নৌযানে পানিপথ পাড়ি দিতে হয়। ভাগ্য ভালো হলে বেঁচে যায় জীবন, নয়তো পথেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ; সন্তান প্রসব বা মৃত্যু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *