আ’লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ২১ আগস্ট চালানো হয় গ্রেনেড হামলা

নিউজ ডেস্ক
এনএনবি বাংলা.কম

ঢাকা : সমাবেশ স্থল মুহূর্তেই সেদিন রক্তে মাংসে হয়ে যায় মাখামাখি। আহত মানুষ বাঁচার জন্য চারিদিকে করছিল আত্মচিৎকার। ভয়াবহতার সে এক অবর্ণনীয় ঘটনা।

সেদিনের হামলার ঘটনায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ নিহত হন ২২ জন নেতাকর্মী।

তবে গ্রেনেড হামলা ও গুলি করার পরও তখন সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া দেশের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল আরো একটি দিন ২১ আগস্ট।

আওয়ামী লীগের আয়োজন করা ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়ে রচনা করা হয়েছিল ইতিহাসের কালো আরো এক অধ্যায়।

দিনটিকে ঘিরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সেখানে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির জাতীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশে ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতকচক্র।

শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে তার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় গুলি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তার শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, একাত্তরের ঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর নীলনকশায় সংঘটিত হয় নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞ।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ মামলার সঠিক তদন্ত হয়নি, ষড়যন্ত্রের হোতাদের রক্ষার উদ্দেশে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং আলামত ধ্বংস করার নানাবিধ ষড়যন্ত্র হয়েছে। এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় গ্রেনেড হামলা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানো হয়। সময়ের পরিক্রমায় এ ঘটনা নিয়ে দুটি মামলা চলমান থাকে। একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের মামলা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালে আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেন। আদালত এ দুই মামলার রায়ে জীবিত মোট ৪৯ জন আসামির মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকী ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার-মাইন্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পালাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক সমাবেশে যে ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়, তা পৃথিবীর ইতিহাসে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই ভয়াল দিনটি বাঙালি জাতি কোনো দিন ভুলবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশের জনগণ ২১ আগস্ট দিনটিকে ২০০৪ সালের পর থেকে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী: ২১ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

সকাল সাড়ে ১০টায় ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করবেন: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উল্লেখ্য, সেদিন গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। সাংবাদিকরা আহত হন। আহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের অনেকে আজও স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে করছেন মানবেতর জীবনযাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *