কফি চাষে নীলফামারীতে বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ

কফি চাষে নীলফামারীতে বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ

মো. মিজানুর রহমান : নীলফামারী কিশারগঞ্জে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা এনে কৃষকের আগ্রহ বাড়িয়েছে বানিজ্যিকভাবে সম্ভবনাময় কফি চাষ।

স্বল্প পুঁজি আর এ উপজেলার মাটি কফি চাষে ঊপযোগী হওয়ায় চাষাবাদ এখন সময়ের দাবি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে কফি শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন বুনছেন কৃষক।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারী-বেসরকারী পূষ্ঠপোষকতাসহ কফি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র স্থাপন করা হলে কফি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হতে পারে একটি অন্যতম খাত।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলা সদরের মুন্সিপাড়া গ্রামের বিসমিল্লাহ্ নার্সারির মালিক আঃ কুদ্দুসের স্ব উদ্যোগ ২০১৪সালে এ উপজেলায় কফি চাষের গোড়া পত্তন ঘটে।

তিনি গত ৭ বছর আগে কক্সবাজারের জাহানারা গ্রীণ এগ্রো ফার্ম থেকে ১৫০টি কফির চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন চাষাবাদ। শুরুর দিকে তিনি উড়–ন-গাইনে বাড়িতে কফি প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় সরবরাহ করছিরেন।

পরে সফলতা আসায় বর্তমানে নিজের কফি বাগান থেকে বীজ সংরক্ষণ, চারা উৎপাদন বিপণনের মাধ্যমে স্থানীয় উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা শহর গুলোতে সরবরাহ করে বছরে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। স্বপ্ন নয় বরং তিনি এখন সফলতার সিড়ি বেয়ে হাটছেন।

উপজেলার পুটিমারী কাচারী পাড়া গ্রামের সুলতান আলী কফি চাষের সুবিধা তুলে ধরে এনএনবি বাংলাকে বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কফি চাষে অধিক লাভ। পরিচর্যাসহ রোগবালাই কম, গরু-ছাগলে খায় না এবং বেড়া দেওয়া লাগেনা। চারা রোপণের ২ বছরের মধ্যে মিলে যায় ফলন।

যেখানে ১ কেজি চা পাতা ৩ শত টাকা সেখানে ১ কেজি কফি পাউটার বিক্রি করা যায় ৪ হাজার টাকা। তিনি ১০ শতাংশ জমিতে কফি চাষ করে ভাল সফলতা পেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, এ অঞ্চলে কফি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র চালু হলে কফি একটি রপ্তানি খাতে স্বর্ণময়ী ফসলে পরিণত হবে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্বাবধানে কৃষক পযার্য়ে উদ্ধকরণের মধ্যে দিয়ে মাগুড়া, গাড়াগ্রাম, রণচন্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ একর জমিতে তাদের সরবরাহকৃত ভিয়েতনামের উচ্চ ফলনশীল কফিয়া রোবাষ্টা জাতের ৬টি কফি বাগান গড়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, এ অঞ্চল মাটি কফি চাষে খুবেই উপযোগী। তবে কফি প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র চালু হলে কৃষক পর্যায়ে কফি চাষের আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। এতে কৃষি অর্থনীতি সমৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *