কি করবে বাহিনী বা পুলিশ-প্রশাসন!

সৌমিন খেলন : করোনা প্রতিরোধ করে দেশ তথা মানুষের জীবন বাঁচাতে মাঠে কাঁধে কাঁধ রেখে রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এরই সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী নানা সংগঠন।

করোনা (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে চলছে জনসচেতনতা। পরিস্থিতিতে ঠিক তেমনই কর্মহীন অসচ্ছল হয়ে পড়া মানুষের ঘরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে দেশের সরকার। এ ছাড়াও স্বেচ্ছায় সমাজের বিত্তশালীরা অসহায়দের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। তাদের মধ্যেও অনেকেই বিলাচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী।

সরকারের সাথে স্বর মিলিয়ে প্রত্যেককে ঘরে থাকতে বলছে সচেতন মহল। রাজপথ থেকে মাঠঘাট, পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর নির্দেশে তারা দিচ্ছেন শতভাগ মানবিকতার পরিচয়। সচেতনতা সৃষ্টি আর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া শুধু নয়। করোনা ভয় আর আতংকে অন্যের পরিবারের ফেলে যাওয়া মরদেহটি কুঁড়িয়ে নামাজে জানাজা পড়িয়ে এখন দাফন করছেন তারা। বুদ্ধিজীবি মহলের মতে বর্তমান সময়ের তাদের (পুলিশ) এ অর্জন ভবিষ্যতের জন্যেও হয়ে থাকবে অনন্য দৃষ্টান্ত।

সরকারের নির্দেশ অমান্যকারী বাহিরমুখী ব্যক্তিদের বারংবার বুঝিয়ে ঘরে পাঠাচ্ছে পুলিশ। দিচ্ছেন পরিচ্ছন্নতা আর সামাজিক দূরত্বের শিক্ষা। কিন্তু আদতে নির্দেশ মানছেন ক’জন? থাকছেন কি ঘরে সবাই? সামাজিক দূরত্ব কে কতটুকু রাখছেন বজায়? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে বাহিনীর অপেক্ষা করতে হবে না। আশপাশে সড়ক, দোকান বা বাজারে চোখ রাখলেই মিলবে এর পরিষ্কার উত্তর।

অনেকেই ঘরে তো থাকছেনই না উল্টো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে খেলছেন চোর পুলিশ খেলা! কোনো বাহিনী দেখলে আড্ডাবাজরা লুকিয়ে পড়ছে আবার বাহিনীর অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে ফের বের হচ্ছে তারা!

আইনজীবী কবি নূর-ই এলাহি খান, সমাজসেবী মুর্শিদা আক্তার তথা সচেতন মহল এজন্য হতাশা আর আতংক প্রকাশ করেন। তারা এনএনবি বাংলাকে বলেন- পুলিশ এবং নির্দেশ উপেক্ষা করা জনতার বিষয়টি এমন হয়েছে যে : করোনা ধরতে বের হচ্ছেন অনেকে কিন্তু ধরতে দিচ্ছে না পুলিশ! এদিকে মাঠে নিয়োজিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা আর বাহিনীর সদস্যদের মন্তব্য এমন- এতোভাবে সুন্দর ব্যবহার করে মানুষকে বুঝানো হচ্ছে কিন্তু কর্নপাতই করছেন না বড় অংশটি। বুঝাতে গেলে হাসে উল্টো মজা করে!

যে যার মতো পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আড্ডায় জমেন, হাট-বাজারে গিয়ে ভাঙেন সামাজিক দূরত্ব আর উপায় থাকলেও তারা ঘরে থাকেন না। কর্ম সূত্রে ঢাকা বসবাসকারীরা স্ব- অবস্থানে না থেকে এরমধ্যে আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। যা গোটা জাাতীর জন্য আরো ভয়াবহ!

এভাবে চলতে থাকলে, নিজে সচেতন না হলে, না মানলে বিধি নিষেধ তবে হাড়ভাঙা আর রক্ত পানি করা পরিশ্রম করে কি করবে সরকারের বাহিনী পুলিশ বা প্রশাসন? নিজে বাঁচতে, প্রিয় পরিবার ও দেশ বাঁচাতে করোনা প্রতিরোধে আসুন নিজ থেকে সচেতন হই। অন্তত ক’টা দিন মেনে চলি সরকারের নির্দেশ। আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের রক্ষা করবেন।

One thought on “কি করবে বাহিনী বা পুলিশ-প্রশাসন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *