খেতে না পেয়ে প্রতিদিন মানুষ মরবে ৩ লাখ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এনএনবি বাংলা.কম

ঢাকা : জাতিসংঘ গত বছরের শেষ দিক থেকেই হুঁশিয়ারি তোলেছিল পঙ্গপালের হানায় পৃথিবীর ১০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকট ভোগ করবেন। এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকেই কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাসে দাম্ভিকতায় থমকে আছে গোটা বিশ্ব। এদিকে স্থবির পরিস্থিতি তথা লকডাউনে বেড়েছে খাদ্য সঙ্কট। তথাপি দুই তিন মাস পর পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখ মানুষ খেতে না পেয়ে মারা যাবে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

পঙ্গপালের হানায় আফ্রিকার ৬ টি দেশে ২ কোটি মানুষ রয়েছে খাদ্য সঙ্কটে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের একশোরও বেশি দেশে পঙ্গপালের কারণে হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। গোটা পৃথিবীতে এজন্য আগ থেকেই খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। করোনা ভাইরাসের লকডাউনে আটকে আছে এমব্রোজ গেটিস, প্রকল্প পরিচালক, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, জাতিসংঘ পঙ্গপাল নির্মূলে নেয়া সব ব্যবস্থা। আপাতত স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চালছে বিমানের মাধ্যমে। প্রয়োজনের তুলনায় এটি মোটেও পর্যাপ্ত নয়। পরিমাণ এখন বলা না গেলেও তৈরি হতে যাচ্ছে বড় সঙ্কট।

উৎপাদন আছে কিন্তু সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ। লকডাউনের কারণে রাস্তায় বের হতে পারছে নাট্রাক চালকও। একটা সময় একটি ট্রিপের জন্য ৫ হাজার নাইজেরিয়ান টাকা খরচ হতো। ৩৫ হাজার খরচ করতে চেয়েও সম্ভব হচ্ছে না এখন। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, ৩ কোটি মানুষের জন্য সারাবিশ্বে নতুন করে প্রয়োজন খাদ্য সহায়তা। অথচ সহায়তা করা যাবে ২ কোটি মানুষের। করোনা ভাইরাস ছাড়াও প্রতিদিন শুধু খাদ্যের অভাবেই বিশ্বের ৩ লাখ মানুষ মারা যাবে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত না হলেও এরইমধ্যে অনলাইনে খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছে পাকিস্তান, হংকংসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ।

তবে এই পক্রিয়ায় মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য সংগ্রহ করার সামর্থ্য না থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। সংকটের সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আর মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিক্রি ৭৭ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তার কথা জানান খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান। সেই লক্ষ্যে শুরু করা হয়েছে অনলাইনে বিক্রয় আদেশ গ্রহণ এবং মানুষের দরজায় পণ্য পৌঁছানো পক্রিয়া। করোনার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। তবে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে। যদি মজুদের প্রবণতা না থাকে তখনই সঙ্কট মোকাবিলা হবে সহজ। বিশ্বে বর্তমানে দেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে বলে সংস্থাটির দেয়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে বছর শেষে ছাড়িয়ে যাবে তা ২৬ কোটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *